October 15, 2026, 3:15 am

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

তারেক রহমান: তৃণমূল থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে

যমুনা নিউজ বিডি: সাম্য, সৌজন্য, সম্পর্কের সম্মান—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভর করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরলেন তারেক রহমান। কাঁধে তুলে নিলেন তারই বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব; মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪০ বছর দলটির হাল ধরে রেখেছিলেন তারই মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তার এই অভিষেক শুধু একটি দলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা নয়—দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন আহ্বানও বটে। রাজনীতিতে তার উপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানুষের প্রতি সম্মান, প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা এবং জাতির প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা।
গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি নিচে চাপা দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির নজির সৃষ্টি করেন। রাজনীতির জাদুকর হিসেবে তিনি দেশের সব পথের মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া তারেক রহমানের বয়স ৬০ বছর। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তী রাজনৈতিক উত্থান-পতনের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী। বহু প্রতিকূলতা পারি দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি হয়ে ওঠেছেন একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।
১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের আগে তারেক রহমান গৃহবন্দিত্ব এড়িয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এটা ছিল জনসম্মুখে তার প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য। গণমাধ্যমের কাছে তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করছিল। এর পরপরই জেনারেল এইচ এম এরশাদের স্বৈরাচারী সরকার তার কণ্ঠ রোধ করতে তাকে ও তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে একাধিকবার গৃহবন্দি করে।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সরাসরি দলের হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্রিয় হন। সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ওই সময় তরুণ তারেক রহমান ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণায় অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি বগুড়ায় তৃণমূল থেকে নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এই সফল উদ্যোগের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচনে উৎসাহিত করেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি স্থানীয় সমস্যা ও সুশাসন নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি কার্যালয় স্থাপন করেন। সেখানে তিনি বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেন। তার এই উদ্যোগের ফলেই ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। চেয়ারপারসনের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও এবং তৃণমূল থেকে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যপদ গ্রহণ করেননি; বরং দলের তৃণমূল শক্তিশালী করার কাজেই মনোযোগ দেন। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে।
২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসব সম্মেলনে তিনি কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি, বয়স্কদের জন্য ভাতা, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন ব্যাগবিরোধী উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন। এসব উদ্যোগ স্কুলে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে নিবন্ধন করা অন্তত ১৮ হাজার মানুষের চিঠির জবাব দেন।
২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সামরিক শাসন জারি হলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে সময় দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে বাধ্য করা হয়। একই সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডন যেতে হয়।
পরবর্তীতে তারেক রহমানে দেশে ফিরে আসায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা করা হয়। একাধিক মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল।
তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০০৯ সালে। তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও অনলাইনে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং দল পুনর্গঠনের কাজে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালে তার মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
তারেক রহমানের সঙ্গে গত এক দশক ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা দলটির কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারেক রহমানের চিন্তা ও দর্শন পুরোটাই জিয়াউর রহমানের মতো।’
২০০১ সালের পর তিনি তৃণমূলে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার ভিত্তিতেই তিনি রাজনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নয়নকেন্দ্রিক করার চিন্তা করেন। দেশের প্রতিটি খাত নিয়ে তিনি ওয়াকিবহাল, আরও জানার আগ্রহও তার আছে। ফলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিএনপি সঠিক নেতৃত্ব পেয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD