October 13, 2026, 10:36 pm
যমুনা নিউজ বিডি: বাংলাদেশ বর্তমানে যে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি সরকারের বা একটি দলের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জনগণের অধিকার নিয়ে একটি গভীর অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় গুরুত্ব লাভ করে।
এই বাস্তবতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক নয়। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বর্তমানে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশের গণতান্ত্রিক গতিপথের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা অনেক নাগরিকও আজ মনে করেন, দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন অপরিহার্য। সেই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বিএনপি সেই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন এবং তারেক রহমান দলটির নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বে রয়েছেন।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই বিষয়গুলো কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এগুলো রাষ্ট্রের ভিত্তি। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থান ও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা জনগণের আস্থা অর্জনের প্রধান শর্ত। তারেক রহমানের নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি বাস্তব প্রতিশ্রুতির ওপর।
বর্তমান সময়ে প্রয়োজন উত্তেজনা নয়, বরং সমাধানমুখী রাজনীতি; প্রতিহিংসা নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সংকট দীর্ঘায়িত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র ও জনগণ—উভয়ই।
এই ক্রান্তিকালে নেতৃত্বের প্রশ্ন তাই ব্যক্তির নয়, নীতির, দলের নয়, গণতন্ত্রের। সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।
লেখক:
নাজমুল হাসান
প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, নাগরিক ছাত্র ঐক্য।
কেন্দ্রীয় সদস্য, নাগরিক ঐক্য।