October 13, 2026, 11:36 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

বিএনপির নতুন মহাসচিব কে? আলোচনায় তিন শীর্ষ নেতা

যমুনা নিউজ বিডি: বিএনপির আগামী জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলটির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই অবসরের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করায় দলীয় অঙ্গনে নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন—তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তিন নেতা। তারা হলেন—স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

যদিও জাতীয় কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে বিএনপি। প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ কাউন্সিল ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

দলের অভ্যন্তরে আলোচনায় থাকা তিন নেতারই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এ তিনজনকে জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

তাদের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদকে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

অন্যদিকে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে দক্ষ সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলন, বিভাগীয় সমাবেশ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার সক্রিয় ভূমিকা দলীয় নেতাদের কাছে প্রশংসিত। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবায় দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকায় তিনি জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত হিসেবেও পরিচিত।

রুহুল কবির রিজভীও সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা মোকাবিলা এবং কঠিন সময়ে দলের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি জনপ্রিয় মুখ। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার বাইরে থাকা অন্য কোনো নেতাও চমক হিসেবে সামনে আসতে পারেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১১ সালে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি স্থায়ীভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় এ দায়িত্ব পালনকারী মহাসচিব হিসেবে তিনি পরিচিত।

সম্প্রতি মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে আগামী কাউন্সিলের পর তিনি অবসর নিতে চান। এ বক্তব্যের পর থেকেই দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি পদে দেখা যেতে পারে বলেও নানা গুঞ্জন রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মহাসচিব পদে শেষ পর্যন্ত কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারণী ফোরামই গ্রহণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD