October 13, 2026, 11:36 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

আজ তাপস-নানকসহ ২৮ জনের বিচার শুরু

যমুনা নিউজ বিডি: জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুল রহমান সৈকতসহ ৯ জনকে হত্যা ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের শুরু আজ। জন্য ৮ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদেস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থান ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ডের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হবে। প্যানেলে অপর দুই সদস্য হলেনÑবিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।এরআগে, গত ১০ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য ৮ জুন দিন ধার্য করে।

এদিন শুরুতেই আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারক মোহিতুল হক এমন চৌধুরী। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান তিনি। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর তিনি উপস্থিত চার আসামির উদ্দেশ্য বলেন, আপনাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, আপনারা দোষ স্বীকার করেন কি-না। আসামিরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এই মামলায় তাপস-নানক আসামিদের মধ্যে অন্যতম ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মোট ২৮ নেতাকর্মী।

এ মামলায় চারজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেনÑনিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় । গত ৭ মে আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তা পিছিয়ে গতকাল দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে,গত ২৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। এরপর আদেশের জন্য ৭ মে দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনেন।

প্রথম অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতাকে দমনে নানক শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রৌশানুল হক সৈকতগণের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাত্র-জনতাকে দমনে নির্দেশনা দিতেন।

এই অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, আসামি হাবিবুর রহমান তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে ২০২৪ সালের ১৭ ও ১৮ জুলাই ওয়ারলেস ম্যাসেজের মাধ্যমে চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদেরকে হত্যার নির্দেশ দেন। এছাড়া ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) এবং মোহাম্মাদপুর জোনের এডিসি রৌশানুল হক সৈকত ১৮ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে গুলি করার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিততে ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর থানা অস্ত্রাগারে সংরক্ষিত ২০০ রাউন্ড চায়নিজ রাইফেলের গুলি ও ১৮০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যবহার করা হয়। এতে ১৮ জুলাই ফারহান ফাইয়াজ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ও ফাতহীন মহতাদী ত্বকী কে গুরুতর জখম করা হয়। যা আসামিদের জ্ঞাতসারেসংঘটিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগ বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড হতে বসিলা রোড ও নূর জাহান রোডসহ আশপাশের এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামি বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপি যুগ্ম-কমিশনার (অপারেশন) এবং আসামি রৌশানুল হক সৈকত নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চাইনিজ রাইফেল, শটগান, গ্যাস শেল, সাউন্ড গ্রেনেডসহ অবস্থান নেন। একপর্যায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি করতে থাকেন। এতে রিকসা চালক মো. মাহিন মিয়া ও রনি গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুরুতর জখম করা হয়। যা আসামিদের জ্ঞাতসারে, সম্পৃক্ততায় ও সহযোগিতায় সংঘটিত হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দেশে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহম্মাদপুর থানাসহ আশপাশের এলাকায় আল শাহরিয়ার হোসেন ওরফে রোকনসহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যা এবং মো. নাহিদ হাসানসহ কমপক্ষে ৮ জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করা হয়। যা আসামিদের উপস্থিতিতে এবং সহায়তায় সংঘটিত হয়েছে। এঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD