October 13, 2026, 10:35 pm
যমুনা নিউজ বিডি: রাঙামাটির প্রতীক ‘ঝুলন্ত সেতু’ অবশেষে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। টানা ৮৬ দিন কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার পানির স্তর নেমে গেলে দৃশ্যমান হয় সেতুটি। দীর্ঘদিন পর এই সেতু দেখতে শুক্রবার সকাল থেকেই পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশি–বিদেশি পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ১৯৮৪ সালে রাঙামাটির দুই পাহাড়ের মাঝখানে এই সেতুটি নির্মাণ করে। তারপর থেকেই এটি রাঙামাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে গত ২৯ জুলাইয়ের পর টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পূর্ণ ডুবে যায় সেতুটি। ফলে প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকে পর্যটকদের চলাচল।
রাঙামাটি হলিডে পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে হ্রদের পানি কমে গেলে সেতুটি আবার দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতন সংস্কার ও রং করার কাজ চলছে। শুক্রবার সকাল থেকেই পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকায় পর্যটন কমপ্লেক্সের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মতো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। নতুন মৌসুমে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর বর্ষাকালে হ্রদের পানি বেড়ে গেলে সেতুটি ডুবে যায়, ফলে রাঙামাটির প্রধান আকর্ষণটি সাময়িকভাবে হারিয়ে যায়। ভবিষ্যতে এ সমস্যা এড়াতে একটি আধুনিক ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সেতুটি পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মুখে। আসন্ন পর্যটন মৌসুম ঘিরে তাঁদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন সেতুটি পানিতে ডুবে থাকায় পর্যটক আগমন কমে গিয়েছিল, ফলে ব্যবসায়িক মন্দা নেমে এসেছিল। এখন সেতুটি আগের রূপে ফিরে আসায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।