October 14, 2026, 12:38 am

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

খুলনাঞ্চলে আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়েছে। আবার কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই মাঠের ফসল ঘরে তুলতে হবে। তাই কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ধানের ব্যাপক ফলনে কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। একই সাথে তারা শীতের ফসল আবাদেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আমন মৌসুমে খুলনাঞ্চলের ৪ জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ অঞ্চলের ৪ জেলায় চাষাবাদ হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ।

সূত্র জানায়, গত বুধবার (১২ নভেম্বর) পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৫০ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।  যা মোট আবাদকৃত জমির ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। খুলনাঞ্চলে রোপা আমন ধান থেকে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

খুলনাঞ্চলের ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, রোপা আমন কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রুপসা উপজেলার কৃষক এসএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর ২৭ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছি। এ থেকে আড়াইশো মণ ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করি। ’

একই উপজেলার কৃষক ইয়াসিন আরাফাত ৩০ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। তিনি বাসসকে বলেন, ‘এবার ৩০০ মণ ধান পাবো।’

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কৃষক তৈয়েবুর কাজী বলেন, ‘ক্ষেতের ধান কাটা প্রায় শেষ। একদিকে ধান কাটা অন্যদিকে মাড়াইয়ের কাজ চলছে। তবে শঙ্কায় আছি, কখন বৃষ্টিবাদল নামবে। দ্রুত ঘরে ধান ওঠাতে পারলেই স্বস্তি।’
দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটের কৃষক রবিউল ধান কাটা শেষ হতেই না হতেই শীতের ফসল আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ধান কাটা শেষ। মাড়াইয়ের কাজ চলছে। ধানের সিজন শেষ। এবার ডাল ও শীতের সবজির আবাদের জন্য জমি তৈরি করতে হবে।’

কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ধুসহাটি ব্লকের কৃষাণ-কৃষাণিরা রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে খুশিরর হাসি যেন কান্নায় পরিণত না হয়, তাই দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে তাদের ব্যস্ততা আরও  বেশি।

তিনি বলেন, রোপা আমন ধানের আবাদ শেষ হওয়ায় কৃষকেরা শীতের রবি শস্য যেমন; তেল ও ডাল জাতীয় ফসল এবং শীতকালীন সবজি আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরাও তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কিশোর আহম্মেদ বাসসকে বলেন, দিঘলিয়া উপজেলাতে চলতি রোপা আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে উপজেলার কৃষকেরা কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করছে। এ কার্যক্রম মনিটরিংয়ের পাশাপাশি উপজেলার কৃষকদের চাষাবাদের জন্য তেল ও ডাল জাতীয় এবং শীতকালীন সবজি আবাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে দিঘলিয়া উপজেলায় ব্রি-১০৩ ধানের জাতটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে এই অঞ্চলের চাষাবাদ বেশ সন্তোষজনক। রোপা আমন আবাদের বিপরীতে উৎপাদিত চাল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD