October 13, 2026, 10:31 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

ইসলামের দৃষ্টিতে যে ৫টি পেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যমুনা নিউজ বিডি: জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষ নানা পেশায় যুক্ত হয়। ইসলাম জীবনের প্রয়োজনে অধিকাংশ কাজকে বৈধ করলেও, নির্দিষ্ট কিছু পেশা ও উপার্জনের পথকে পুরোপুরি হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কারণ এতে ইসলামি সমাজের আকিদা-বিশ্বাস, চারিত্রিক পবিত্রতা ও মান-সম্মানের ঘাটতি হয়।

আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন। অতএব তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে তোমরা আহার করো। আর পুনরুত্থান তো তাঁরই কাছে।’ (সুরা মুলক, আয়াত: ১৫) । এখানে হারাম পাঁচটি পেশার বিবরণ তুলে ধরা হলো—

সুদের কারবার: আল্লাহ তাআলা সুদ হারাম করেছেন এবং ব্যবসা হালাল করেছেন। ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করা সুন্নাহ আর সুদের কারবার করে অর্থ উপার্জন করা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সুদ খায়, তারা তার মতো (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে তারা বলে ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)

সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পেশায় নিজেকে জড়ানো যাবে না। সুদের কারবার করা, সুদি লেনদেন করা এবং সুদি কারবারে সাক্ষী হওয়া নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এরা সবাই সমান অপরাধী। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১৭৭)

মদ: মদ বা নেশা উদ্রেককারী সব দ্রব্য প্রস্তুতকরণ, বণ্টন ও সেবন—সবকিছু ইসলামে হারাম। যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সবার প্রতি মহানবী (সা.) অভিসম্পাত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মদের ওপর দশভাবে অভিসম্পাত করা হয়েছে। যথা—মদ, মদ উৎপাদক, মদ উৎপাদনের নির্দেশদাতা, মদ বিক্রেতা, মদের ক্রেতা, মদ বহনকারী, যার জন্য মদ বহন করা হয়, মদের মূল্য ভোগকারী, মদ পানকারী ও মদ পরিবেশন কারী (এদের সবাই অভিশপ্ত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৫)

পতিতাবৃত্তি: ইসলামে পতিতাবৃত্তির পেশাটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত, হারাম। কোনো স্বাধীন নারী কিংবা দাসীর জন্য ব্যভিচারের মাধ্যমে জীবিকা উপার্জনের অনুমতি ইসলাম কখনও দেয় না। পাশ্চাত্যের অধিকাংশ রাষ্ট্রে পতিতাবৃত্তি একটি বৈধ পেশা। এর জন্য তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে রেখেছে। এই জঘন্য কাজটিকে তারা অন্য দশটি পেশার মতোই দেখে। জাবের (রা.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের দুজন দাসী ছিল, একজনের নাম মুসাইকা এবং আরেকজনের নাম উমাইমা।

সে তাদের দুজনকে দিয়ে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তি করাত। তাই তারা এ বিষয়ে নবীজি (সা.)-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করল। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ‘আর তোমাদের দাসীরা সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করো না। এই নিষেধাজ্ঞার পরও কেউ তাদেরকে বাধ্য করলে, তাদের (দাসীদের) ওপর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩৩; মুসলিম, হাদিস: ৩০২৯)

এই হাদিসের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নিকৃষ্ট পেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। প্রয়োজন যতই তীব্র হোক ব্যভিচার কখনোই বৈধ হতে পারে না।

অশ্লীল শিল্পকর্ম: যৌন আবেদনময় নৃত্য, অশ্লীল গান, নগ্ন অভিনয় এবং এ ধরনের সব অশ্লীল কর্ম হারাম। নিষিদ্ধ সম্পর্কের পথ খুলে দেয় এ জাতীয় প্রতিটি কথা, কাজ ও পদক্ষেপ ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথা।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩২) আল্লাহ তাআলা শুধু ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি এর ধারে-কাছে যেতেও নিষেধ করেছেন।

চিত্রশিল্পী, ক্রুশ ও ভাস্কর্যনির্মাণ: ইসলামে দেহবিশিষ্ট মূর্তি ও প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম। এগুলো সংরক্ষণও নিষিদ্ধ। ইমাম বুখারি (রহ.) সাইদ ইবনে আবিল হাসান (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, ‘আমি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তার কাছে এক ব্যক্তি এসে (তার উপনাম ধরে ডেকে) বলল, হে আবু আব্বাস, আমি এমন এক মানুষ, আমার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম আমার হস্তশিল্প। আর আমি (এ হস্তশিল্পের মাধ্যমে প্রাণীর) এসব ছবি প্রতিকৃতি নির্মাণ করি।

তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, (প্রাণীর এসব ছবি-প্রতিকৃতি নির্মাণের বিষয়ে) আমি আল্লাহর রাসুলকে (সা.) যা বলতে শুনেছি, শুধু তা-ই তোমাকে বর্ণনা করব। আমি তাকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো (প্রাণীর) ছবি-প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দেবেন, যতক্ষণ না সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করে। আর সে তাতে কখনও প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না।

এতে লোকটি ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, আফসোস তোমার জন্য। তুমি যদি একান্ত এ কাজ না-ই ছাড়তে পারো, তবে এ গাছপালা ও প্রত্যেক প্রাণহীন বস্তুর ছবি-প্রতিকৃতি বানাতে পারো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২২৫)

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD