October 14, 2026, 12:38 am
ষ্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া সদরে সাব- রেজিস্ট্রাবগুড়া সদর অফিসে সাব রেজিস্ট্রার অনিমেষ পালের যোগদানের পর নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও তার বদলি না হওয়ায় অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারি এবং বেশির ভাগ দলীল লেখকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষুব্ধ দলিল লেখকদের অভিযোগ, বগুড়া সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিকট অতিতে এমন ঘুষখোর, দূর্নীতি ও দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেটবাজ কর্মকর্তাকে তারা দেখেনি। তার বিরুদ্ধে গত সাড়ে তিন বছরে দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা মিটিং, মিছিল, মানববন্ধন এবং কর্মবিরতীর কর্মসুচি পালন করলেও তাকে সরানো যায়নি।
দলিল লেখকদের আরও অভিযোগ, বহুবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে সবাই অনিমেষ ম্যাজিকের কাছে হার মেনেছেন।
ক্ষুব্ধ সহকর্মীরাও বলেছেন, তাদের ধারণা ছিলো জুলাই বিপ্লবের পর হয়তো অনিমেষের বিরুদ্ধে কিছু একটা হবেই। শুরুতে বগুড়া এনসিপির একাধিক গ্রুপ একাধিকবার তাকে অফিসে অবরুদ্ধ করে। এসময় তিনি এনসিপি নেতাদের কাছে সব ধরনের দুর্নীতি থেকে বিরত থাকার অঙ্গিকার করে সে যাত্রায় রেহাই পান। পরবর্তীতে তিনি ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই দুদক ও আইজিআর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হয়নি।
এক অনুসন্ধানে দেখা যায় সরকারি চাকরি বিধি মোতাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ সাব-রেজিস্টার অনিমেষ চন্দ্র পাল তার কতিপয় সহযোগীকে নিয়ে অফিসে ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি তার নিজস্ব বলয় বা সিন্ডিকেটভুক্ত দলিল লেখক কে নিয়ে বগুড়া সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ত্রাসেররাজত্ব কায়েম করছেন। তার ওই চিহ্নিত দলিল লেখক ছাড়া, অন্য কেউ কমিশন দলিল লিখলে সাব- রেজিস্টার পাল তাদের কমিশন দলিল গুলি রেজিস্ট্রি করতে রাজি হয় না। অথচ তার পছন্দের দলিল লেখকগণ কমিশন দলিল লিখলে তা দেশের যেকোন প্রান্তে হোক না কেন সাব-রেজিস্টার পাল সেখানে যেয়েই দলিলগুলি রেজিস্ট্রি করে থাকেন। এতে বগুড়া দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বগুড়া সদরের মেয়াদ উত্তীর্ণ সাব- রেজিস্ট্রার পালের বদলির গুঞ্জন উঠলেও তাকে অন্যত্র বদলি না করার কারণ হিসেবে জানা গেছে, বগুড়া সদরের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাওকে বদলি নিতে হলে আইজিআর অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অংকের সেলামি দিতে হয়। হয়তো সেকারণেই তাকে বদলী করে নতুন সাব-রেজিস্টার নিয়োগে কালক্ষেপণ চলছে।
অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘুষখোর অনিমেষ পালের খুঁটির জোর অনেক বেশি। তাই কর্তৃপক্ষ তাকে অনত্র বদলি করে নতুন কাউকে পোস্টিং দিতে পারছেনা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাব রেজিস্ট্রার বদলীর বিষয়টি তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়েনা। তাই এ ব্যাপারে তার করনীয় কিছু নেই।
অন্যদিকে অনিমেষ পালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তিনি নিয়মের মধ্যেই সবকিছু করেন। হয়তো অনেকের অন্যায়
আব্দার পুরন করতে পারিনা বলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ করতে পারে বলে আমার ধারণা।র অফিসে অনিমেষ পালের ঘুষের রাজত্ব, ক্ষোভ প্রতিবাদ উপেক্ষিত