October 13, 2026, 11:36 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

নাকাই খাল পুনঃখনন শেষে ৪১ লাখ টাকা ফিরল সরকারি কোষাগারে

গাইবান্দা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাই খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় অব্যবহৃত ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় বরাদ্দের তুলনায় কম অর্থে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিনাথপুর ইউনিয়নের নাকাই খাল পুনঃখননের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এবং আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা কমেছে।

গত ১২ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় তিন মাস ধরে চলা খননকাজ শেষে শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহনসহ সব ধরনের ব্যয় পরিশোধ করা হয়। এরপরও বরাদ্দের একটি অংশ অব্যবহৃত থাকায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পুরো কাজের সময় নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এতে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কম ব্যয়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুনঃখননের পর খালটিতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট ও দখলের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট ছিল নিয়মিত সমস্যা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই খালের মাধ্যমে ২০টির বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। আগে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে আমন ধান আবাদ করা যেত না। খাল পুনঃখননের পর পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে, ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশও উপকৃত হবে বলে তাঁদের আশা।

স্থানীয় কৃষক আশরাফুল বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে বর্ষায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও অনেকটা হ্রাস পাবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, প্রকল্পে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সব খরচ মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই প্রতিটি প্রকল্পে ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারেরই একটি উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD