October 14, 2026, 7:37 am
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় প্রাথমিকে (৫ম শ্রেণির) ২ হাজার ১৭৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এরমধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ৭৭৭ জন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী। জেলায় মোট বৃত্তি প্রাপ্তির হার ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।
আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ১২টি উপজেলার ২৩টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি মিলে ১ হাজার ৯১২টি স্কুলের ১৪ হাজার ৮৯৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১১ হাজার ২৭৭ জন শিক্ষার্থী।
সূত্র জানিয়েছে বগুড়া সদর উপজেলায় মোট ৪২৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এরমধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ১৩৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ২৯২ জন। এছাড়া আদমদীঘি উপজেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ১২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ৪০ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৮২ জন। কাহালু উপজেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ১২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ৩৮ জন এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ৮২ জন।
গাবতলী উপজেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ৭০ জন এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ১১৬ জন। দুপচাঁচিয়া উপজেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৪৭ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৪০ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১০৭ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। ধুনটে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৬৫ জনের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৬৪ জন এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ১০১ জন।
নন্দীগ্রামে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৯২ জনের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩৭ এবং সাধারণ গ্রেডে ৫৫ জন পেয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৪৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ৯৯ জন এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ১৪৭ জন। শেরপুর উপজেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ৬৮ জন এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ১১০ জন।
সারিয়াকান্দিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৭৩ জনের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৫৮ এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ১১৫ জন শিক্ষার্থী। সোনাতলা উপজেলায় ১৬১ জনের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৬৩ এবং সাধারণ গ্রেডে পেয়েছে ৯৮ জন এছাড়া শাজাহানপুর উপজেলার বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৬৪ জনের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৬৭ এবং সাধারণ গ্রেডে ৯৭ জন বৃত্তি পেয়েছে।
বর্তমানে প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এবার যারা বৃত্তি পেয়েছে, তারা এই টাকা পাবে।
তবে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই টাকা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ এ বছরের শেষে যে বৃত্তি পরীক্ষা হবে, তাতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে টাকা পাবে। শিক্ষা অধিদপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)।News
তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রাথমিকের মেধা অন্বেষনের এই পরীক্ষাটি ২০২৫ সালে ২১ ডিসেম্বর থেকে হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বেসরকারি স্কুলের দু’ জন অভিভাবকের দায়ের করা রিটের কারণে পরীক্ষাটি স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন জানান, মেধাবৃত্তি দেওয়া হয় উপজেলা বা থানা অনুযায়ী। আর সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দু জন বালক ও দু জন বালিকা এবং একটি মেধার ভিত্তিতে)।