October 13, 2026, 11:35 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

চুয়াডাঙ্গার হাটগুলোতে এবার মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি

যমুনা নিউজ বিডি: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের ৪টি পশুর হাট।

হাটে এবারও দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও চাষিরা। তবে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।

জেলার ৪টি উপজেলায় সপ্তাহে ৪দিন বসে এ ৪টি পশুর হাট। জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে জীবননগর শিয়ালমারি পশু হাট।

প্রতি বৃহস্পতিবার বসে সাপ্তাহিক এ হাট। দুপুরের পর থেকে জমজমাট হতে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জমজমাট কেনাবেচা। দূর-দূরান্ত থেকে খামারি ও কৃষকরা তাদের পালিত গরু-ছাগল নিয়ে আসে হাটে।

আর এ হাটে পশু কিনতে দেশের নানান প্রান্ত থেকে বেপারিরা আসেন। আর মাত্র কয়েক দিন পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উদ্‌যাপিত হবে। এ কারণে অনেকেই পশু কেনাবেচায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ সপ্তাহে হাটে পশু কেনাবেচা কম হলেও পশু দেখতে ও দাম যাচাই-বাছাই করতে অনেকে হাটে যাচ্ছেন।

ঈদের আগে শিয়ালমারিতে আর একটি মাত্র হাট বসবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও সদর উপজেলায় নয়মাইল ভূলটিয়ায় হাট বসে প্রতি শনিবার। দামড়হুদার ডুগডুগিতে হাট বসে প্রতি সোমবার ও আলমডাঙ্গার রেলস্টেশন সংলগ্নস্থানে হাট বসে প্রতি বুধবার।

শিয়ালমারি পশু হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে শত শত গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের আগমন ঘটেছে। বিভিনস্থান থেকে প্রচুর বেপারি হাটে এসেছেন। বেপারিদের সঙ্গে খামারিদের গরু বেচা-কেনা করতে দরকষাকষি করতে দেখা গেছে। পশু ও ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগমে হাটটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। হাটের বিশাল আকৃতির গরুগুলো সবার নজর কাড়লেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝারি সাইজের গরুতে আগ্রহ বেশি।

গরু কিনতে আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, কোরবানি দেওয়ার জন্য হাটে একটি গরু কিনতে এসেছি। বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। একটু বড় সাইজের গরুর দাম বলছে দুই লাখ টাকা। এক লাখ থেকে, এক লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে গরু খুঁজছি। কিন্তু গরু পছন্দ হলেও দেড় লাখ টাকার নিচে দাম বলছে না।

খামারি জামাল হোসেন বলেন, কোরবানির জন্য ফার্মে ৮টি গরু প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করেছি। আজকে ৪টি গরু হাটে নিয়ে এসেছি। গরুর দাম শুনে অনেকেই বলছে দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এখন গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গরু লালন পালন করতে অনেক খরচ হয়। সবকিছু হিসাব করেই দাম চাওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর থেকে গরু কিনতে আসা বিল্লাল বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিয়ালমারি হাটে গরু কিনতে আসি। এই হাটে অনেক গরু আমদানি হয়। এ কারণে ট্রাক নিয়ে গরু কিনতে এসেছি। ১০টি গরু কেনা হয়েছে। আর ৫টি গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে যাব। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি থাকার কারণে এই ধরনের গরু বেশি কেনা হয়েছে।

কোরবানির জন্য ছাগল কিনতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, আজকের হাটে কোরবানি দেয়ার উপযুক্ত প্রচুর ছাগল উঠেছে। ছাগলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ২০ হাজার টাকায় পছন্দমতো একটি ছাগল কিনেছি।

হাট মালিক কামরুল হাসান জানান, কোরবানির ঈদের এখনও কয়েকদিন বাকি রয়েছে। এ কারণে হাটে কেনাবেচা সেভাবে বাড়েনি। অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সমসময় সতর্ক করা হচ্ছে। মেশিনের মাধ্যমে জাল টাকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, শিয়ালমারি হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত আছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বেপারিরা যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই গরু কেনা-বেচা করতে পারেন, সেজন্য সব সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বাসসকে বলেন, জেলার ৪ উপজেলায় এ বছর কোরবানি উপযোগী পশু রয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি। এর মধ্যে গরু ৪৪ হাজার ৩৯৬টি ও ছাগল রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি।

জেলায় কোরবানি উপযোগী গরু-ছাগলের চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি। সেই হিসাবে চুয়াডাঙ্গায় উদ্বৃক্ত থাকছে ৭১ হাজার ৬৬টি গরু-ছাগল।

বাকি পশুগুলো দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হবে। প্রতিটি পশুহাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম কাজ করছে। জেলায় ৪টি বড় পশুর হাট রয়েছে। এসব হাটে প্রচুর ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এছাড়াও আরও ২টি পশুর হাটে পশু বেচাকেনা হয়। তবে এবার আমরা অস্থায়ী পশু হাট না করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD