October 14, 2026, 10:34 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

গোপনে ইরানে ড্রোন ও মিসাইল সরবরাহ করেছে চীন!

যমুনা নিউজ বিডি: চলমান ইরান সংকটের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে চীন ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতার খবর। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রবল চাপের মধ্যেই ইরানকে অত্যাধুনিক মিসাইল সরঞ্জাম ও ড্রোনের খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে বেইজিং।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র পর ইরান যখন তার সামরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই চীনের পক্ষ থেকে এই প্রচ্ছন্ন সমর্থন তেহরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

কী আছে গোয়েন্দা রিপোর্টে? মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় চিপসেট, প্রপালশন সিস্টেম এবং ড্রোনের জন্য বিশেষ জিপিএস প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন (SMIC)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তেহরানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কেন এই সহায়তা? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান চীনের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পতন ঘটলে বেইজিংয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। এছাড়া মার্কিন আধিপত্য খর্ব করতে ইরানকে একটি ‘প্রক্সি’ হিসেবে টিকিয়ে রাখা বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ। তবে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে চীন অত্যন্ত সতর্কভাবে এই সরবরাহ বজায় রাখছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে বেইজিংকে সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ সরাসরি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “চীন একদিকে শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি দিচ্ছে।”

অন্যদিকে, বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরান ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বৈধ এবং তা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। বরং তিনি এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “অবৈধ সামরিক অভিযানকে” দায়ী করেছেন।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডারের বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে চীনের নতুন এই সরঞ্জাম সরবরাহের খবর যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
এই গোপন সরবরাহ যদি অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD