October 14, 2026, 11:16 pm
যমুনা নিউজ বিডি: মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরান আজ এক চরম মানবিক ও রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়ের মুখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় দেশটির অবকাঠামো কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক বিশেষ সরেজমিন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘আমাদের চোখের সামনেই ইরান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং রাজধানী তেহরান এখন এক মৃত্যুপুরী ও চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের রাস্তাঘাট এখন জনশূন্য। এক সময়ের ব্যস্ত এই নগরীর বাসিন্দারা এখন দিনের অধিকাংশ সময় ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার বা অন্ধকার ঘরে কাটিয়ে দিচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সম্প্রতি তেহরান ও পার্শ্ববর্তী কারাজ শহরের সংযোগকারী নবনির্মিত বি-১ সেতুতে ভয়াবহ হামলার পর এই আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়েছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিÑপরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বাকি সব গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এই হুমকির পর তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি বার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প কারখানা এখন ধ্বংসস্তূপ। ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ গুদামও। অর্থনৈতিকভাবে ইরান এখন কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পাল্টা আঘাত হিসেবে কুয়েত ও সউদী আরবের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। গত শুক্রবার ইরানের গুলিতে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন এক ‘মহাযুদ্ধের কিনারে’ দাঁড়িয়ে আছে। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান থামানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে উদ্যত ইরান এখন কেবল টিকে থাকার লড়াই করছে। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের শেষ কোথায়, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে গোটা বিশ্ব।