October 14, 2026, 1:37 am
যমুনা নিউজ বিডি: ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ধারাবাহিক ঘটনার প্রতিবাদে ২০ জুলাই দেশটির পার্লামেন্ট অভিমুখে রওনা হওয়া বিক্ষোভ মিছিল নয়াদিল্লিকে কার্যত অচল করে দেয়, যখন শত সহ¯্র জেন জি আন্দোলনকারী দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো দখল করে নেন।
এই আন্দোলনে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের অধীনে পুলিশের দমন-পীড়ন অভিযানে ১ শ’ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়। এরপর থেকেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ভিডিও, মিম ও স্মার্টফোনে ধারণ করা অসংখ্য দৃশ্যে সয়লাব হয়ে যায়।
দিল্লীর পার্লামেন্ট স্ট্রিটে বিক্ষোভস্থলে কিশোরী অবাংশিকা সিং আল জাজিরাকে বলেন, ‘এখন সবাই শুধু এই একটি বিষয় নিয়েই কথা বলছে। আর কিছু না হোক, আমরা আমাদের বিপ্লব টেলিভিশনে দেখাচ্ছি। আজ পুরো দেশ আমাদের সাথে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের জ্বালা অনুভব করছে।’
মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিকভাবে হাতিয়ার বানিয়ে ক্ষমতায় ওঠার পথপ্রদর্শক হওয়ার ১২ বছর পর, ভারতের জি-প্রজন্ম তথা জেন-জি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর অনলাইন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সেই একই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করছে।
‘আঙ্কেল মোদি, ফিরে যাও, ফিরে যাও’ স্লোগানে অংশগ্রহস করার প্রাক্কালে সিং বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার পর, এখন ইন্টারনেটে মোদিকে ঘৃণা করাটা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এদিকে, জেন জি আন্দোলনে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, বিক্ষোভকারীরা মেটা চশমা সজ্জিত পুলিশ, লাঠিচার্জ, পেলেট-গানের ব্যবহার, কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নিরস্ত্র ছাত্রদের মারধর ও ধাওয়া করা, একজন মায়ের কর্মকর্তাদের কাছে আকুতি এবং কাঁদানে গ্যাস থেকে পালাতে থাকা ছাত্রদের একজন কর্মকর্তার পা দিয়ে ফেলে দেওয়ার তথ্যচিত্র শেয়ার করেছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি জেন জি তরুণদের ‘তেলাপোকা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে অভিহিত করার পর তারা সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ গঠন করে, যারা জানিয়েছে, তিনটি দাবি পূরণ হওয়া পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকবে।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা না করা, এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সাংস্কৃতিক সমালোচক অনুরাগ মাইনাস ভার্মা বলেন, ‘তেলাপোকা আন্দোলনের আগে থেকেই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলোর মিমে সরকারের সমালোচনা চলছিল। সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যন্তর মন্তরে একটি পথ খুঁজে পেয়েছে। রাজধানীতে মোদিকে লক্ষ্য করে সমালোচনা ও ঘৃণা এখন শুধু গ্রহণযোগ্যই নয়, বরং বেশ আকর্ষণীয়ও হয়ে উঠেছে।’
এই বিক্ষোভটি এখন ভারতে মিমের আন্দোলনেও পরিণত হয়েছে। ২০ বছর বয়সী ইপশিতা গুলিয়ারি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই সরকার দেশের যুবসমাজের প্রতি কোনো দায়িত্বই পালন করছে না। মোদি ভুল প্রজন্মের সাথে লাগতে এসেছেন। তার মধ্যে অনেক ঔদ্ধত্য আছে এবং জানেন তো ব্রো, কিশোর-তরুণরা এটা সহ্য করে না।’
১৮ বছর বয়সী যশভি কুমার বলেন, ‘জেন জি বিষয়টিকে হাস্যরসের মাধ্যমে নিচ্ছে, কারণ এটাই আমাদের মানিয়ে নেওয়ার উপায়। এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও আমরা বুঝেছি, এক হতে হলে বিদ্রোহেরও একটি ভাষা দরকার। সেই কাজটাই করছে মিম।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির অনলাইন আধিপত্য এখন ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরে দিনরাত ধরে ঘটনাপ্রবাহ রেকর্ড করে চলেছেন, অন্যদিকে ২০ জুলাইয়ের দমনপীড়নের জেরে ভারতের মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ এবং আইজলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।