October 14, 2026, 1:37 am
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের সবচেয়ে বড় গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজার দিনাজপুর সদর উপজেলার গাবুড়া। শুরুতেই এবার ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং ঢাকার বাজারে দাম তুলনামূলক কম থাকায় চলতি বাজার অনুযায়ী লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
ঐতিহ্যবাহী গাবুড়া টমেটোর বাজারে কৃষকেরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টমেটো নিয়ে আসে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হওয়া এ হাট চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। কৃষকেরা ক্ষেত থেকে টমেটো সংগ্রহ করে খাঁচায় সাজিয়ে সাইকেল, ভ্যানে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে এই হাটে। পাইকাররা এসব টমেটো কিনে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিদিন এখান থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ৫০-৬০টি ট্রাক।
শরীয়তপুর থেকে আগত টমেটো ব্যবসায়ী দবির সরদার জানান, চলতি বছরে মূলত কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে তুলনামূলক বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছি, কিন্তু ঢাকার বাজারে গিয়ে তা প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা কাক্সিক্ষত লাভের মুখ দেখছেন না বরং অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের মুখে পড়ছেন। তার মতে, পরিবহন সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। এই বাড়তি খরচ ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। পক্ষান্তরে এবার তুলনামুলক ভালো দাম পেয়ে খুশি টমেটো চাষিরা। সদর উপজেলার নয়নপুর এলাকার কৃষক নাজমুল হুদা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ও দাম দুটোই সন্তোষজনক। প্রতি মণ টমেটো ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।
কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বর্তমানে বাজারে বিপুল প্লাস ও বিউটি জাতের টমেটো প্রতি মণ ১ হাজার টাকায় এবং আনসাল জাতের টমেটো ১ হাজার ২শ’ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে জেলায় ৮৬৫ হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজার ১৮ মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদিত হয়েছিল। এবার সেই পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৮ হেক্টর জমিতে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ১৩৭ মেট্রিক টন।Fruits & Vegetables
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক(শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার ফলে এবার চাষাবাদের জমির পরিমাণ বেড়েছে। আশা করছি, প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪১ দশমিক ৬৪ টন উৎপাদন হবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৯শ’ হেক্টর জমির ফসল উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির ফসল ধাপে ধাপে মাঠ থেকে তোলা হচ্ছে।