October 13, 2026, 10:35 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

যমুনা নিউজ বিডি: ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নীরবে তৈরি হয়। এর কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ বা তাৎক্ষণিক সতর্ক সংকেত থাকে না, লিভার ধীরে ধীরে চর্বিতে ভরে যায়। অনেকের কাছে এই রোগ নির্ণয়টি উদ্বেগজনক মনে হয়। কিন্তু একটি আশ্বস্তকারী সত্য হলো, এটি এমন কয়েকটি রোগের মধ্যে একটি যেখানে সঠিক সহায়তা পেলে শরীর সত্যিই নিজেকে সুস্থ করে তুলতে পারে। আসল প্রশ্নটি এটা নয় যে ওষুধ ছাড়া এটি সেরে উঠতে পারে কি না। বরং প্রশ্নটি হলো, লিভারের প্রকৃত প্রয়োজনের সঙ্গে দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

শরীরের অভ্যন্তরে ফ্যাটি লিভারের আসল অর্থ কী

ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD), তখন দেখা দেয় যখন লিভারের কোষগুলোতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়। এটি শুধু চর্বি জমার বিষয় নয়। এটি একটি লক্ষণ যে শরীর সঠিকভাবে শক্তি প্রক্রিয়াকরণে হিমশিম খাচ্ছে।

এর কেন্দ্রে রয়েছে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। শরীর ইনসুলিনের প্রতি ভালোভাবে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, ফলে রক্তে শর্করা বেশিক্ষণ থেকে যায়। এরপর লিভার এই অতিরিক্ত শর্করাকে চর্বিতে রূপান্তরিত করে এবং তা সঞ্চয় করে।

কেন ওষুধ সবসময় প্রথম সমাধান নয়

প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাটি লিভারের জন্য ওষুধ প্রধান সমাধান নয়। ওষুধের অভাবে লিভার অকার্যকর হয়ে পড়ছে না। এটি দৈনন্দিন বিভিন্ন উপাদান, খাবার, নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফ্যাটি লিভার ডিজিজ মানে শুধু একটি ওষুধের প্রয়োজন নয়, বরং এর মূল কারণটি বোঝাটাই বেশি জরুরি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজে, ওষুধ ছাড়াই এর প্রতিকার করা সম্ভব, তবে এর জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

বিজ্ঞান-সমর্থিত সত্য: ওজন কমালে কাজ হয়

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফলের মধ্যে একটি হলো, পরিমিত ওজন কমালে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে দূর করা যায়। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস-এর একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে যে, শরীরের ৭-১০% ওজন কমালে লিভারের চর্বি, প্রদাহ এবং এমনকি প্রাথমিক ক্ষতও হ্রাস পেতে পারে।

খাদ্য নির্বাচন

লিভার প্রতিদিন যা খাওয়া হয় তাতে দ্রুত সাড়া দেয়। তাই খাদ্যাভ্যাসের মান উন্নত করুন। এর মূল কথা হলো কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এবং কার্বোহাইড্রেট অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ না করা, পাশাপাশি খাবারে আরও বেশি ফাইবার যোগ করা নিশ্চিত করা। পরিশোধিত ময়দার পরিবর্তে গোটা শস্য, তাজা শাক-সবজি এবং ফল, বাদাম এবং অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি, মাছ এবং ডালের মতো চর্বিহীন প্রোটিন নিয়মিত খান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লুকানো চিনি এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো।

ব্যায়াম: সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে উপেক্ষিত উপায়

কার্যকর হওয়ার জন্য ব্যায়ামকে তীব্র হতে হবে না। লিভার নিয়মিত নড়াচড়ায় সাড়া দেয়, মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে করা নড়াচড়ায় নয়। বেশিরভাগ দিন ৩০-৪০ মিনিটের দ্রুত হাঁটাও ধীরে ধীরে লিভারের চর্বি কমাতে পারে। ব্যায়াম পেশীগুলোকে ভালোভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সাহায্য করে, যা লিভারের ওপর চাপ কমায়। বেশিরভাগ দিন ৩০-৪০ মিনিটের সাধারণ হাঁটাও ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ঘুম এবং ধৈর্যের ভূমিকা

জীবনযাত্রা শুধু খাবার এবং ব্যায়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঘুম এবং মানসিক চাপ সরাসরি বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা শরীরকে লিভারসহ অন্যান্য স্থানে আরও বেশি চর্বি জমা করতে উৎসাহিত করে। এই অবস্থার পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটিও ধীর। দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা যায় না, যা প্রায়শই হতাশার কারণ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD